ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা
প্রকাশিত : ০৯:৪৪, ২৮ মার্চ ২০২৫

এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে টানা নয় দিন বন্ধ থাকবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই ছুটি। দীর্ঘ এই ছুটিতে রাজধানীর বেশিরভাগ বাসিন্দাই নাড়ির টানে স্বজনদের কাছে চলে যাবেন। এতে ঢাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়বে, ফাঁকা থাকবে অধিকাংশ ভবন ও এলাকা। তবে এই সুযোগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর বাসাবাড়ি, ভবনের আশপাশ, ছাদবাগান ও নির্মাণাধীন ভবনগুলো দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্ন না থাকলে মশার বংশবিস্তার সহজ হবে। একই সঙ্গে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে, যা এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
সাধারণত, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিয়ন্ত্রণে ১৩ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তাদের তদারকি করেন মশক সুপারভাইজার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে থাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন জোনভিত্তিক ইমার্জেন্সি টিম গঠন করেছে, যেখানে প্রতিটি জোনে ১২ জন কর্মী থাকবে। কোথাও মশার উপদ্রব দেখা গেলে এই টিম দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ মশক কর্মী ছুটিতে থাকবেন। যেহেতু এটি সরকারি ছুটি, সবাইকে কাজ করতে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি জোনে ১২ জনের একটি ইমার্জেন্সি টিম থাকবে, যারা প্রয়োজনে কাজ করবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, এবং মারা গেছেন ৫৭৫ জন। গত বছর এপ্রিল থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে সতর্ক না থাকলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসএস//